শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ০১:১৭ অপরাহ্ন

গাইবান্ধায় ৩০ টাকা কেজি মূল্যের বেশি দরে আলু বিক্রি করলেই ব্যাবস্থা

গাইবান্ধায় ৩০ টাকা কেজি মূল্যের বেশি দরে আলু বিক্রি করলেই ব্যাবস্থা

জয়ন্ত সাহা যতন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন কাঁচা বাজারে ৫০ থেকে ৬০ টাকা আলুর কেজীর দর উঠেছে। এতে আলুর বাজারে অস্থিরতা লক্ষ করা গেছে।গাইবান্ধাতেও এ অস্থিরতা চলছে।আলুর বাজারে অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন পর্যায়ে সবজিটির মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।জানা গেছে,সরকারের নির্ধারিত ৩০ টাকা কেজি মূল্যের বেশি দরে আলু বিক্রি করলেই ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন গাইবান্ধার স্থানীয় প্রশাসন।

নির্ধারিত মূল্য হিসেবে প্রতিকেজি আলুর দাম হিমাগারে ২৩ টাকা, পাইকারিতে ২৫ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৩০ টাকা দরে বিক্রি নিশ্চিত করতে সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।

একইসঙ্গে উল্লেখিত দামে কোল্ডস্টোরেজ, পাইকারি বিক্রেতা ও ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা বিক্রেতাসহ তিন পক্ষই যাতে আলু বিক্রি করে সেজন্য কঠোর মরিটরিং ও নজরদারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়ে ডিসিদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গত আলুর মৌসুমে প্রায় ১ দশমিক ৯ কোটি মেট্রিকটন আলু উৎপাদিত হয়েছে। দেশে মোট আলুর চাহিদা প্রায় ৭৭ দশমিক ৯ লাখ মেট্রিকটন। এতে দেখা যায়, গতবছর উৎপাদিত মোট আলু থেকে প্রায় ৩১ দশমিক ৯১ লাখ মেট্রিকটন আলু উদ্বৃত্ত থাকে। কিছু পরিমাণ আলু রপ্তানি হলেও ঘাটতির আশঙ্কা নেই।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে একজন চাষির প্রতিকেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে আট টাকা ৩২ পয়সা। আর আলুর মৌসুমে যখন হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে তখন প্রতিকেজির আলুর সর্বোচ্চ দাম ছিল ১৪ টাকা। প্রতিকেজি আলু হিমাগার ভাড়া বাবদ ৩ দশমিক ৩৬ টাকা, বাছাই খরচ ০. ৪৬ টাকা ও ওয়েট লস ০.৮৮ টাকা, মূলধন সুদ ও অনান্য খরচ বাবদ ব্যয় হয় দুই টাকা। অর্থাৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে অন্য খরচ ধরে এক কেজি আলু হিমাগার পর্যন্ত সংরক্ষণে সর্বমোট ব্যয় হয়েছে ২১ টাকা।

এক্ষেত্রে হিমাগার পর্যায়ে বিক্রিমূল্যের ওপর ২-৫ শতাংশ লভ্যাংশ, পাইকারি পর্যায়ে ৪-৫ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে ১০-১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ধরে হিমাগারের আলু দাম ২৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে আলু সংরক্ষণকারীর লাভ হয় কেজিপ্রতি দুই টাকা।

অন্যদিকে আড়তদারি, খাজনা ও লেবার খরচ বাবদ ৭৬ পয়সা খরচ হয়। সেক্ষেত্রে পাইকারি পর্যায়ে দাম পড়ে ২৩ দশমিক ৭৬ টাকা। এর সঙ্গে মুনাফা ধরে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ভোক্তা পর্যায়ে সেটা ৩০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সংস্থাটি। কিন্তু খুচরা পর্যায়ে বর্তমানে প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, যা অযৌক্তিক। কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই কোল্ডস্টোরেজ পর্যায়ে প্রতিকেজি আলু ২৩ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ২৫ টাকা এবং খুচরা বা ভোক্তা পর্যায়ে ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন জানিয়েছেন,সরকারিভাবে আলুর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।নির্ধারিত মূল্যের বেশি দরে আলু বিক্রি না করার জন্য ব্যাবসায়ীদের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।তিনি জানিয়েছেন জেলার বাজার মনিটরিং সেল ও স্থানীয় প্রশাসন গাইবান্ধার বিভিন্ন কাঁচা বাজার মনিটরিং করছে।সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে নির্ধারিত মূল্যের বেশি দরে আলু বিক্রি করলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।





পুরাতন নিউজ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©2019-2021 Daily Vorer Kantho. All rights reserved.