শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ০১:৩৩ অপরাহ্ন

সুন্দরগঞ্জে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে ধুনকররা,বিক্রিও বেড়েছে

সুন্দরগঞ্জে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে ধুনকররা,বিক্রিও বেড়েছে

জয়ন্ত সাহা যতন,সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ভোরের কুয়াশা, দিনের বেলার ঠাণ্ডা বাতাস, রাতে আলোর ঝলকে ছেলেদের ব‍্যাটমিনটনের খট খট শব্দই জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। আর এ শীতকে মোকাবেলার জন্য এখন সুন্দরগঞ্জে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বিশেষ করে এখানকার গ্রাম অঞ্চলে এ প্রস্তুতি চোখে পড়ার মত। এখন দিন -রাত সমানতালে লেপ তোষক ও কাঁথা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এখানকার লেপ-তোষক কারিগর থেকে আরম্ভ করে গ্রামের বৌ-ঝিরাও।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে গত কয়েক সপ্তাহ হতে হালকা কুয়াশায় শীতের আমেজ বিরাজ করছে এর ফলে লেপ তৈরি করতে শুরু করেছে জনসাধারণ এবং নড়েচরে বসছেন কারিগররা অনেকটা ব্যস্ততা বেড়েছে তাঁদের।

রাতে ও খুব সকাল শীত অনুভূত হচ্ছে এ উপজেলায় আর এ অনুভূতি কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন বাড়িতে বা পাড়ায় পাড়ায় প্রস্তুতি নিচ্ছে লেপ-তোশক বের করা সহ মেরামত বা নতুন করে তৈরির। কেউবা বাক্সবন্দি করে রাখা লেপ-তোষক বের করছেন ঠিক করার জন্য। আবার কেউ নতুনভাবে তৈরি করছেন তাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন লেপ-তোষকের কারিগররা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কারিগররা ধনুক দিয়ে তুলা ফেটিয়ে নিয়ে তৈরি করছেন লেপ-তোষক। কারিগরদের টুংটাং আওয়াজ আর বাতাসে উড়ে বেড়ানো তুলা জানিয়ে দিচ্ছে শীত এসে গেছে।

এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাটবাজারে বিক্রি ও তৈরিতে কাটছে ব্যস্ত সময়।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গার লেপ-তোষক কারিগর মিলন রায়, জানান, সপ্তাহ আগেও তেমন কাজকর্ম ছিল না এখন কেবল শীতের শুরু। আর কয়েকদিন পর রাত-দিন সমান তালেই কাজ করতে হবে আমাদের এ পেশায় ২০ বছর হয়ে গেলো তাঁর। বতর্মানে পুরনো লেপ ভেঙে নতুনভাবে তৈরির অর্ডার সহ দোকান মালিকদের কাছ থেকেও বেশি অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে লেপ-তোশক তৈরির কারিগরেরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন পুরোদমে।

লেপ তোষক তৈরির কারিগর উত্তম রায়ের কাছে জানতে চাইলে (প্রতিদিন কয়টা করে লেপ বা তোষক তৈরি করেন) তিনি বলে এখন ছোট দিনের বেলা তারপরেও দিনে ৪/৫ টা তৈরি করি। মজুরীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রতিদিন ৪৫০ থেকে ৫০০ উপার্জন করি।
এ উপজেলায় মোট ৩০/৪০ জন এ পেশার সাথে জড়িত বলে জানান কারিগর’রা।

উপজেলায় লেপ-তোষক বিক্রেতা ফারুক মিয়ার কাছে বিক্রয় সংক্রান্ত তথ‍্য জানতে চাইলে তিনি বলেন,

সামনে বিয়ের মাসের পাশাপাশি শীত শুরু থেকেই প্রতিদিন গড়ে ৪/৫টি অর্ডার পাচ্ছি।

জাদিম দুটি বালিশসহ দাম পরছে ২ হাজার টাকা। লেপ গার্মেন্টস তুলা দিয়ে তৈরি বালিশসহ ১২শ টাকা। বাঙ্গার তুলায় লেপ বালিশ ছাড়া ১৭ শত টাকা। প্রতিটি বালিশের মূল্য ১২০/১৩০ টাকা। কোলবালিশ এর দাম ১৭০ টাকা, প্রতি কেজি গার্মেন্টস সাদা তুলা ১৫০ এবং কালার ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, তুলার দাম প্রতি বছর দু-এক টাকা বেড়ে যায় এবং মহাজনের নিকটে লেনদেন হওয়ায় তেমন একটা বুঝতে পারিনা।
তবে চাওয়া মাত্র প্রয়োজনীয় মাল সরবরাহ করে মহাজনরা। জাদিম তৈরি হয় ব্লেজার তুলায়।
আমারা প্রতিটি লেপ পাঁচ কেজি তুলা দিয়ে বানিয়ে বিক্রি করছি।

সব মিলিয়ে লেপ-তোষক তৈরির কারিগরের পাশাপাশি দোকানদাররাও ব‍্যস্ত সময় পার করছে।





পুরাতন নিউজ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©2019-2021 Daily Vorer Kantho. All rights reserved.