সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

হার্ড ওয়ার্ক নয়, স্মার্ট ওয়ার্ক করুন !

হার্ড ওয়ার্ক নয়, স্মার্ট ওয়ার্ক করুন !

ডেস্ক রিপোর্টঃ কঠোর পরিশ্রম করা স্বত্বেও আমরা অনেকেই সফলতার স্বাদ নিতে পারছি না । আমরা অনেকেই চিন্তা করি কিভাবে আমরা জীবনে সফল হবো। কোনো কাজই ছোট না । সকল পেশার  মানুষের প্রতি সন্মান রেখেই বলছি ধরুন একজন রিকশাওয়ালা কঠোর পরিশ্রম করার পরেও সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে্ন, অন্যদিকে একজন ফ্রিল্যান্সার ঘরে বসে ডলার আয় করছেন। আসলে দুইটা সম্পূর্ন আলাদা পেশা এবং আলাদা কর্ম দক্ষতার দুইজন ব্যক্তি কিন্তু বিষয়টি বোঝানোর  উদ্দেশ্যেই কথাগুলো বলা। একটি স্মার্ট ওয়ার্ক অন্যটি হার্ড ওয়ার্ক।

 স্মার্ট ওয়ার্ক সম্পর্কে  বিখ্যাত গ্রন্থ “দ্যা গ্রেট পার্ল অব  উইজডম” এর লেখক  বঙ্গম্বী হবিয়ারীমন বলেন,

সর্বাধিক সফল ব্যক্তিরা স্মার্ট কাজ করে, হার্ড ওয়ার্ক নয়”

আমরা যদি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কাজগুলো যদি সঠিক পরিকল্পনা এবং পূর্ব পরিকল্পনার মাধ্যমে করতে পারি তাহলে সাফল্য আসতে বাধ্য। শুধুমাত্র কঠোর পরিশ্রম দিয়ে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়, এর পাশাপাশি আপনাকে কাজটি স্মার্ট ধারনা থাকতে।

দিন শুরু করুন রুটিন মেনে

প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ঠ রুটিন নিয়ে আপনার সকাল শুরু করার চেষ্টা করুন। আপনার ডেস্কে বসার আগে কিছুটা সময় আপনার কাজের ক্ষেত্রটি ঘুরে দেখে নিতে পারেন বা পেশাদার মনোভাব বিকাশের জন্য ভালো কোনো বইয়ের কিছুটা পংক্তি পড়ে আপনার দিন শুরু করতে পারেন। দিনের শুরুতে কিছুটা মেডিটেশন করে নিতে পারেন যাতে আপনার কাজে মনোযোগ বাড়ানোর সাথে সাথে কাজের চাপ নিতে এবং কঠিন সময়ে মেজাজ ধরে রাখতে সাহায্য করেবে। প্রতিটি দিন শুরু হোক রুটিন মাফিক স্মার্টভাবে।

আপনার কার্য তালিকা সংক্ষিপ্ত রাখুন

আপনার দিনের কাজের তালিকাটি সংক্ষিপ্ত রাখুন। দিনের জন্য  নির্দিষ্ট তিন থেকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জিং কার্যগুলিতে মনোনিবেশ করুন। আপনার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি সম্পূর্ণ হয়ে গেলে আপনার মধ্যে উদ্দমী মনোভাব কাজ করবে। এরপর কম গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলিতে মনোনিবেশ করুন।

দিনটি শেষ হোক রুটিন মেনেই

দিনের শুরুতে যেমন পরিকল্পনা করে কাজ শুরু করেছিলেন ঠিক সেইভাবেই দিন শেষ করার পরিকল্পনা করে রাখতে পারেন। দিন শেষে ঠিক করুন পরবর্তি দিন যে সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবেন। অফিস থেকে বের হওয়ার আগেই অবশ্যই নিজের ডেক্স গুছিয়ে বের হবেন যাতে পরবর্তি দিন কোনো গুরুত্বপূর্ণ জিনিস খুঁজে বের করতে বেশি সময় নষ্ট না হয়।

 সকল প্রকার অ্যালার্ম বা অ্যলার্ট বন্ধ রাখুন

আপনার কাজের উপর ফোকাস করার প্রয়োজন হলে আপনার মোবাইল অ্যালর্ম বা ক্যালেন্ডার অ্যালার্ট বন্ধ রাখুন। এরফলে আপনার দিনটির অপ্রত্যাশিত বিঘ্ন থেকে মুক্ত রাখবে এবং আপনার কাজটি সম্পাদনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন।

দ্রুত রেস্পন্স করুন

প্রতিটি কাজের দ্রুত রেস্পন্স করার অভ্যাস গড়ে তুলুন, যদি কোনো কাজ আপনাকে দিয়ে করা অসম্ভব হয় সেটিও ইতিবাচক ভাবে জানিয়ে দিন। আপনার কাছে যদি মেইল আসে যেটির জবাব প্রয়োজন, অবিলম্বে সেটির জবাব দিন। যদি আপনার কাছে সঠিক জবাব না থাকে তাহলে সময় চেয়ে নিন এবং ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার ফিডব্যক জানান। এটি শুধুমাত্র মেইলের ক্ষেত্রে না, দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্রেও যেকোনো বিষয়ে দ্রুত রেস্পন্স করুন।

শেষ হওয়া কাজের তালিকা রাখুন

একটি দিনের মধ্যে আপনি যে কাজগুলো শেষ করছেন তার একটি চলমান তালিকা রাখুন। এটি আপনাকে অনুপ্রেরণা এবং সাফল্য বোধ করতে সহায়তা করবে। এই তালিকাটি ভবিষ্যতে অনুরূপ কাজ করার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা হিসেবে  সাহায্য করবে।চ

যোগাযো দক্ষতা বৃদ্ধি করুন

 যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধিতে অগ্রাধিকার দিন। আপনি যখন নিজের কাজ করছেন পাশাপাশি আপনার সহকর্মী বা আপনার বস আপনাকে বিভিন্ন রকম নির্দেশনা দিতে পারেন, সেক্ষেত্রে নিজের কাজের পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নের সঠিক জবাব দিন । দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্রে আমরা যখন সহকর্মীদের মেইল করে থাকি তখন মেইলের ভাষা সংক্ষিপ্ত রাখার পাশাপাশি মুল বক্তব্য তুলে ধরুন।

ফলাফল নির্ভর মিটিং করুন

প্রতিষ্ঠানের কাজের ক্ষেত্রে মিটিং প্রায়শই প্রয়োজনীয় হয়ে উঠে এবং প্রতিটি মিটিংই নির্দিষ্ঠ কিছু পরিকল্পনা নিয়েই হয়ে থাকে।মিটিং করার পূর্বেই মিটিংয়ের এজেন্ডা তৈরী করুন। মিটিংয়ের এজেন্ডা অবশ্যই ফলাফল নির্ভর হতে হবে। মিটিংটিকে যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত এবং ফলাফল নির্ভর। মিটিং কখনো দীর্ঘ সময় বা সল্প সময়ের জন্য করা ঠিক নয় । মিটিং-এর একটি নির্দিষ্ট মাত্রার সময় থাকতে হবে যেমন দেড় ঘন্টা থকে দুই ঘন্টা। আপনি যদি দীর্ঘ সময় মিটিং-এ ব্যয় করেন তাহলে আপনার  দৈনন্দিন কাজে প্রভাব পড়বে। মিটিং শেষে অবশ্যই মিটিং-এ আলোচিত বিষয় এবং সিদ্ধান্তগুলো মিটিং মিনিটসের মাধ্যমে সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছিয়ে দিন। যার ফলে পর্বতিতে সভার প্রতিটি বিষয় ফলো-আপ করতে সুবিধা হবে।

দেড় ঘন্টা থেকে দুই ঘন্টার ব্লকে কাজ করুন

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে আমাদের মস্তিষ্ক একবার ৯০ মিনিটের জন্য ফোকাস ধরে রাখতে সক্ষম। আপনার দিনটিকে দেড় ঘন্টা বা দুই ঘন্টার তিন থেকে চার অংশে ভাগ করার বিষয়ে বিবেচনা করুন। এটি আপনাকে আপনার সামগ্রিক উত্পাদনশীলতাকে ফোকাস করতে এবং আপনার মস্তিষ্কের প্রাকৃতিক ক্ষমতা সর্বাধিক করে তুলতে সহায়তা করবে। এছাড়াও, নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি আপনার বিরতির সময়সূচী মেনে চলেছেন এবং আপনার ৯০ মিনিটের কাজের সময়কালে আপনার কাজের প্রতি মনোনিবেশিত থাকুন। এই কাজের সময় নিশ্চিত করুন যাতে আপনার ফোন বা মেইল আপনার কাজের ক্ষেত্রে যাতে প্রভাব না ফেলে।

একটি কাজে মনোনিবেশ করুন

বেশকিছু গবেষনা দেখিয়েছে যে আপনি যখন একটি কাজ থেকে অন্য কাজে চলে যান তখন আপনি আসলে সময় নষ্ট করেন কারণ আপনার মস্তিষ্কের কার্যগুলি স্যুইচ করতে এবং এর ফোকাস পরিবর্তন করতে সময় লাগে। মাল্টি-টাস্কের আবেগকে প্রতিহত করুন, এর পরিবর্তে আপনার সমস্ত মনোযোগ একটি কাজের দিকে নিয়োজিত করুন। প্রথম কাজটি শেষ করেই পরবর্তি কাজে ফোকাস করুন।

 সংক্ষিপ্ত সময়সীমা সেট করুন

আপনার কাজের জন্য সর্বদা যুক্তিসঙ্গত সময়সীমা নির্ধারণ করা উচিত, একটি কাজকে সমাপ্ত করার জন্য প্রথমে কাজটি কয়কটি ভাগে ভাগ করুন এবং প্রতিটি কাজের ছোটো ছোটো সময়সীমা নির্ধারন। এই কৌশলটি প্রায়শই দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে যার সাহায্যে আপনি য়াপনার কাজগুলি সফলভাবে শেষ করতে সক্ষম হবেন।

কাজের চাপ কমাতে কৌশলী হোন

কাজের চাপ কমাতে বই পড়া, মেডিটেশন করা, গান শোনা বা ইয়োগা করার কৌশলগুলি অনুশীলন করুন। এই কৌশলগুলি আপনার শারীরিক, মানসিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ভালো প্রভাব ফেলবে এবং এটি আপনার কর্মক্ষেত্রের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করবে। এই কৌশলগুলি আপনাকেএমন চাপের সাথে লড়াই করতে সহায়তা করবে।

 
লেখকঃ মোঃ আশরাফুল মাখলুকাত  
অ্যাসিস্টেন্ট এক্সিকিউটিভ, এএইচআর
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ইমেইলঃ ashrafulcuhrm@gmail.com





পুরাতন নিউজ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©2019-2021 Daily Vorer Kantho. All rights reserved.