সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন

বান্ধবীর বিয়েতে এসে স্বীকার হলো গনধর্ষনের

বান্ধবীর বিয়েতে এসে স্বীকার হলো গনধর্ষনের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ঢাকায় গার্মেন্টে কাজ করা বাগেরহাটের এক গার্মেন্ট কর্মী হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে বান্ধবীর বিয়েতে আসলে গণধর্ষণের শিকার হন। পরে ধর্ষণকারীরা ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভিকটিমকে ঘরের শিলিং এ ঝুলিয়ে রাখে, যাতে সবাই বুঝতে পারে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। পরে ভিকটিম থানায় অভিযোগ দিলে ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মাঝে দুই নারী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে এই ঘটনার বিষয় স্বীকার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার কোন্তাকাটা গ্রামের ১৯ বছর বয়সী এক নারী গার্মেন্টকর্মী ঢাকার একটি গার্মেন্টসে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের দেলোয়ার হোসেন দিলুর মেয়ে কোহিনুর আক্তারের সাথে চাকরি করতেন। এক সাথে চাকরি করার সুবাদে তাদের মাঝে ঘনিষ্ট সম্পর্ক হয়। সম্প্রতি ভিকটিম কোহিনুরের বিয়ে ঠিক করার সময় তার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এ সময় কোহিনুরের আত্মীয় ওই গ্রামের মনা মিয়ার ছেলে শিপন মিয়ার সাথে পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

গত ১২ মার্চ ছিল কোহিনুরের বিয়ে। ভিকটিম কোহিনুরের বিয়েতে অংশ নেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে আসেন। ওই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভিকটিমের সাথে দেখা করে শিপন মিয়া কোহিনুরের পাশের আশরাফ উদ্দিন এর ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে শিপন মিয়া ও তার আরো ৩ সহযোগী মিলে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে।

ভিকটিম পরে তার বোনকে পেয়ে সাহস ফিরে পান এবং ঘটনা বোনকে খুলে বলেন। পরে ১৫ মার্চ ভিকটিমকে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার ভিকটিম ও তার বোন লাখাই থানায় গিয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ওই দিন রাতেই অভিযোগ পেয়ে লাখাই থানা পুলিশ নোয়াগাঁও গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে আশরাফ উদ্দিনের স্ত্রী আফিয়া বেগম, মকবুল হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন দিলু ও দেলোয়ার হোসেন দিলুর স্ত্রী রাবেয়া খাতুনকে গ্রেপ্তার করে।

শুক্রবার দুপুরে আফিয়া বেগম ও রাবেয়া খাতুনকে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা বেগমের আদালতে নিয়ে আসলে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। একই আদালত শুক্রবার বিকেলে ভিকটিমের ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করে।

লাখাই থানার ওসি তদন্ত মহিউদ্দিন জানান, গার্মেন্টকর্মীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে শিপন মিয়া ও তার তিন সহযোগী মিলে তাকে ধর্ষণ করে ঘরের শিলিংয়ে ঝুলিয়ে রাখে। তবে ভিকটিমের মৃত্যু না হওয়ায় প্রকৃত রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। যারা এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সূত্র – কালের কণ্ঠ

 





পুরাতন নিউজ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©2019-2021 Daily Vorer Kantho. All rights reserved.