বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

১০০ টাকায় বাড্ডা থেকে উত্তরা!

১০০ টাকায় বাড্ডা থেকে উত্তরা!

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেশজুড়ে চলছে কঠোর বিধিনিষেধ। এর আওতায় গতকাল থেকে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন চলাচল। 

গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে অফিসে পৌঁছাতে বা অন্য কোনো কাজে বাসা থেকে বের হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে মানুষকে। আবার বাস না থাকার সুযোগে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা। এতে অফিসগামী যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে সিএনজি চালকের সঙ্গে দরদামের কোনো সুযোগই পাচ্ছেন না যাত্রীরা।

গণপরিবহন বন্ধ থাকায় এমন চিত্র রাজধানীর সর্বত্রই। তবে এরমধ্যেও নিজেদের মতো করে সমাধান বের করে নিয়েছেন যাত্রী ও চালকরা। এমন চিত্রই দেখা গেল বাড্ডা এলাকায়। সেখান থেকে সিএনজিতে উত্তরা হাউজবিল্ডিং-আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত যাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০০ টাকায়।

এক্ষেত্রে যে ঘটনাটি ঘটছে তা হলো আসলে কয়েকজন যাত্রী শেয়ারে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে সিএনজিচালক আব্দুল কাদের বলেন, গণপরিবহণ না থাকায় পুরো রাজধানীতে প্রায় এভাবেই এখন সিএনজিগুলো চলছে। লকডাউনের মধ্যে গণপরিবহন বন্ধ, কিন্তু অফিস চালু আছে। যে কারণে চাকরিজীবীদের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ভাড়া পড়ে যাচ্ছে বেশি, কিন্তু এভাবে যদি যাত্রীরা শেয়ারে যেতে পারেন তাহলে যাত্রীদেরও উপকার, পাশাপাশি আমাদেরও লাভ।

আরেক সিএনজিচালক এরশাদ আলী বলেন, মাত্র ১০০ টাকায় বাড্ডা থেকে উত্তরা-আব্দুল্লাহপুর একজন যাত্রীর সিএনজিতে পৌঁছানো একেবারেই অস্বাভাবিক। এ অবস্থায় আমরা শেয়ারে যাত্রীদের নিয়ে যেতে পারছি। ফলে যাত্রীরা উপকৃত হচ্ছেন। আর আমরাও বেশি টাকা পাচ্ছি। দুই পক্ষেরই উপকার এতে। স্বাভাবিক সময়ে বাড্ডা থেকে উত্তরা পর্যন্ত যাত্রীদের সিএনজি ভাড়া দিতে হতো ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। কিন্তু এখন শেয়ারে চারজন যাত্রী নিয়ে যাওয়ার ফলে আমরা উত্তরা বা আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত এক ট্রিপে ভাড়া পেয়ে যাচ্ছি ৪০০ টাকা। এতে আমাদের যেমন লাভ হচ্ছে যাত্রীরাও কম টাকায় নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।

তন্ময় আহমেদ নামে এক যাত্রী বলেন, অফিস খোলা, এ অবস্থায় আমরা কিভাবে অফিস যাব-আসব? এটা নিয়ে কারও কোনো মাথা ব্যথা নেই। বাড্ডা থেকে আমার অফিসে যাওয়ার জন্য সিএনজি ভাড়া চায় ৩০০ টাকা। কিন্তু এভাবে প্রতিদিন এত টাকা খরচ করে যাওয়া-আসা করা কি সম্ভব? এ অবস্থায় এখান থেকে জনপ্রতি ভাড়া ১০০ টাকায় উত্তরা-আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত যাওয়া যাচ্ছে শেয়ারে। লাইনে দাঁড়িয়ে আছে প্রচুর সিএনজি, সবাই এভাবে শেয়ারেই যাচ্ছে। এতে করে আমাদের উপকারই হয়েছে।

আরেক যাত্রী ফজলুর রহমান বলেন, যেহেতু অফিস খোলা আর অন্যদিকে  গণপরিবহন বন্ধ। এই অবস্থায় আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অর্থাৎ করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা নিয়ে এভাবে গাদাগাদি করে সিএনজিতে যাচ্ছি। এখানে কোনো স্বাস্থ্যবিধি নেই, তবুও আমাদের যেতে হচ্ছে। বিষয়টা খুবই দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, সব অফিসের তো আর নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা নেই। চাকরি টিকিয়ে রাখতে এভাবেই বাধ্য হয়ে করোনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।





পুরাতন নিউজ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©2019-2021 Daily Vorer Kantho. All rights reserved.