সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ০১:২২ পূর্বাহ্ন

নিরীহ সাপ মেরে সবলের ফেসবুক স্টাট্যাস

নিরীহ সাপ মেরে সবলের ফেসবুক স্টাট্যাস

জারমান আলি,স্টাফ রিপোর্টারঃ

সাপ ভীতি’ আমাদের বহু পুরনো। আর এই সার্বজনীন ভীতির ফলেই প্রকৃতিতে সাপদের প্রাণ হারাতে হচ্ছে খুবই নির্মমভাবে। অথচ সাপ প্রকৃতির একটি অত্যন্ত উপকারী প্রাণী।আমাদের দেশে যত প্রকারের সাপ রয়েছে তার মধ্যে ৯৫ শতাংশ সাপ নির্বিষ। অর্থাৎ, বিষ নেই।অবশিষ্ট মাত্র ৫ শতাংশ সাপ বিষধর।

তবে তারা সচরাচর ব্যাপকভাবে মানুষের ক্ষতি করে না।‘সাপ মানেই বিষাক্ত, তাদের দেখামাত্রই মেরে ফলতেই হবে’- সাধারণ জনগণের এই ভুল বা ভ্রান্ত ধারণাটি শুদ্ধ বা সঠিক ধারণায় রূপান্তরিত করতে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করছে  বন্যপ্রাণী গবেষক আদনান আজাদ আসিফ। তিনিবলেন, এ বিরল প্রজাতির সাপটির বাংলা নাম ‘জলপাইরঙা দাঁড়াশ’। এর ইংরেজি নাম Indo-chinese Rat Snake বৈজ্ঞানিক নাম Ptyas korros। এরা নির্বিষ ও খুবই দ্রুতগতির সাপ। গাছেই থাকতে পছন্দ করে। প্রজনন মৌসুমে ৪-১২টি ডিম দেয়। পাখি, গিরগিটি, ইঁদুর, ব্যাঙ খায়। সিলেটের বনাঞ্চল, বান্দরবান ও সুন্দরবনে কদাচিৎ দেখা যায়।

তারপরও দেশের আনাচে কানাচে সব জায়গায় এই সাপ দেখা যায় গত ২১ তারিখ নীলফামারীর কানিয়ালখাতা গ্রামে এলাকাবাসী দুইটা ৮ ফিট ২ ইঞ্চি মেরে ফেলে তাদের অভিযোগ দাড়াশ সাপটি ছোট একটি বাচ্চার দিকে তেড়ে আসছিলো তাই তারা সাপটিকে মেরে ফেলছিল এবং তার ছবি তুলে ফেসবুক উল্লাস করে।

এ ব্যপারে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যপ্রাণি বিভাগের অধ্যাপক এবং বন্যপ্রাণী বিশারদ ও লেখক ড. মনিরুল এইচ খান ভোরের কন্ঠকে অনলাইনে বলেন সব ধরনের সাপের প্রতি মানুষের প্রচণ্ড ভীতি রয়েছে। অথচ শতকরা ৯৫ শতাংশ সাপের কিন্তু কোনো প্রকার বিষ নেই। নীলফামারীর জনসাধারণের যে অভিযোগ তুলে সাপটিকে মেরে ফেলেছে তা পুরোটাই মিথ্যা কারণ সাপ কখনো মানুষের উপর তেড়ে আসে না বিপদের সময় নিজেকে বাচানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে এই সাপ মানুষ কে কামড় দিয়েছে বা মানুষ মারা গেছে তা কখনো শুনা যায়নি,মানুষের দিকে তেড়ে আসা তো দুরের কথা,।

তিনি আরও বলেন বিষধর গোখরা বা কেউটে সাপ কিন্তু মানুষের বসতবাড়ির আশপাশেই থাকে। এদের প্রধান খাবার ইঁদুর। তাই তারা আমাদের বসতভিটার কাছাকাছি থাকে। তারা প্রচণ্ড ভয় বা আঘাত না পেলে কিন্তু কখনো ছোবল দেয় না।
জনসাধারণকে এই ভ্রান্ত-ভীতি দূর করতে পারলেই আমাদের প্রকৃতিতে সাপ বেঁচে থাকার সুযোগ পাবে এবং প্রতিবেশ ব্যবস্থায় সুশৃংখলা ফিরে আসবে।

‘সব সাপই কিন্তু আমাদের প্রকৃতির উপকার করে। ’তাই প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় ও উপকারী এই প্রাণিকে বাচাতে বেসরকারী উদ্দেগের পাশাপাশি সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন কে জোড়ালো ভূমিকা পালন করতে হবে।





পুরাতন নিউজ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©2019-2021 Daily Vorer Kantho. All rights reserved.