শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:২০ পূর্বাহ্ন

১৫০বছর পর পেল দলিত সম্প্রদায় আপন সমাধিস্থল

১৫০বছর পর পেল দলিত সম্প্রদায় আপন সমাধিস্থল

 

জারমান আলি,স্টাফ রিপোর্টার:

নীলফামারী সদর উপজেলাধীন দারোয়ানি রেল স্টেশন এর আশেপাশে প্রায় ১৫০ বছর ধরে রবিদাস (মুচি) হরিজন (মেথর) ও বাঁশমালি সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে ৬০ পরিবারে ২০০–৩০০ জন বসবাস করে আসছে কিন্তু ছিলনা কোন সমাধিস্থল,যার ফলে কেউ মারা গেলে পড়তে হত চরম বিপাকে। শোককে সান্ত্বনা দিয়ে খুঁজতে হত দাফন বা দাহ করার স্থান।

অবশেষে দীর্ঘ পরিশান্ত কষ্টের পর তাদের বাড়ি থেকে অদুরে সরকারি ১৫ শতক জমির উপর সমাধিস্থল বানানোর জন্য থানা নির্বাহী অফিসার (টিএনও) অনুমতি ও একলক্ষ টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করে।
কিন্তু বাদসাধে সেখানকার স্থানীয় জনগণ, কারন চারদিকে মুসলিমদের বাড়ি, মসজিদ ও মাদ্রাসা হাওয়ায় কাজশুরু করতে কিছুটা বিলম্বনা পেতে হয়।

সেখানকার স্থানীয় লোকজন দৈনিক ভোরের কন্ঠকে বলেন আমরা সকলেই জানি ওই (১৫ শতক) জমি স্থানীয় আলহাজ্ব নাজিমউদ্দীন সরকারের। জমিটা একটু উঁচু হাওয়ায় আমরা ওখানে বোরো মৌসুমে ধান ঘরে তোলার কাজ সম্পাদন করি,ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করে,আমরা অবসর সময় ঘুরাফিরা করি এখন শুনেছি এটা খাস জমি ও মেথর সম্প্রদায় সেখানে তাদের শ্মশান করবে,চারিদিকে মুসলিমদের বাড়ি, পাশে মসজিদ তারা ২–৩ কিমি থেকে ঢোল তবলা বাজিয়ে আসবে,আর লাশের পোড়া গন্ধ হবে,আমরা স্থানীয়রা তাহলে কিভাবে বসবাস করব।

এ বিষয় মিমাংসা করার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নীলফামারী জেলা শাখার মহিলা জয়েন্ট সেক্রেটারি রত্না সিনহা গত শনিবার (২৬ শে জুন) দলিত সম্প্রদায় ও স্থানীয় জনগণ কে নিয়ে আলোচনা করেন ওবিষয়টি মিমাংসা করেন।
পরে এলাকার সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোঃ কাশেম আলি বলেন খাস জমি ১৫ শতক আলহাজ্ব নাজিমউদ্দীন সরকারকে দিয়ে ও হিন্দু সম্প্রদায় শ্মশান এর কাছে দলিত সম্প্রদায় জন্য আলহাজ্ব নাজিমউদ্দীন সরকারের ১৫ শতক জমি বদল করিয়ে এ বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে এতে উভয় পক্ষই সম্মতি জ্ঞাপন করেছে এবং আগামী ৩০ তারিখে জেলা প্রশাসক মহোদয় উক্ত সমাধিস্থল উদ্বোধন করার আশ্বাস প্রদান করেন।

এ ব্যাপারে দলিত সম্প্রদায় থেকে ছবি রাণী রবিদাস বলেন চোখের সামনে দাদা,দাদি,পাড়া প্রতিবেশী ও আমার অন্যান্য সম্প্রদায় যেমন বাশমালি,হরিজন রবিদাস সম্প্রদায়ের লোকের মৃত্য হতে দেখেছি,মৃত্য যত না কষ্ট তার চেয়ে বেশি কষ্টের হল আপন জনের লাশ চোখের সামনে পড়ে থাকা কেননা আমরা প্রায় ১৫০ বছর ধরে বসবাস করে আসছি
নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে কেউ মারা গেলে মাটি কোথায় দিব এই নিয়ে উঠে দুশ্চিন্তা তখন বাড়ি থেকে ৮–১০ কিমি দূরে নদীর ধারে মাটি চাপা দেই,।বর্ষাকালে যখন নদী ভাংগে চোখের সামনে নদীতে আপন জনের লাশ ভেসে যেতে দেখি তখন কিছুই করার থাকে না।
আবার নদীর দুপার যখন পানিতে তুলিয়ে যায় তখন রেললাইন এর কোন এক ধারে করব রস্থ করি।

আজ আর আমার নিজ সম্প্রদায়ের লোকের মধ্যে কেউ মারা গেলে কাউকে কোন জায়গার চিন্তা করতে হবেনা, সেক্রেটারি আপা আমাদের সমাধিস্থল এর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এজন্য আপার কাছে আমরা চীর কৃতজ্ঞ।

পরে রত্না সিনহা সবার উদ্দেশ্য বলেন সবাই একে অপরের সুখে দুঃখে পাশাপাশি থাকব, সবাই একটু মানবিক হব মানুষ হিসেবে মনুষ্যত্ব থাকতে হবে দোয়া ও আর্শিবাদ কামনা করে সভাশেষে উক্ত সমাধিস্থল পরিদর্শন করেন।





পুরাতন নিউজ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©2019-2021 Daily Vorer Kantho. All rights reserved.