শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

গোয়াইনঘাটে বিপুল উৎসাহে চলছে আমন ধানের চারা উত্তোলন ও রোপন কাজ

গোয়াইনঘাটে বিপুল উৎসাহে চলছে আমন ধানের চারা উত্তোলন ও রোপন কাজ

 

 

সিলেট সংবাদদাতাঃ

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার কৃষকরা কিছুদিন আগেই তাদের উৎপাদিত বোরো ধান ঘরে তুলেছেন। বেশ কিছুদিন বিশ্রাম শেষে আবারও মাঠে নেমেছেন কৃষকরা।এবার উপজেলায় বোরো ফসলের উৎপাদন ভাল হওয়ায় মহামারী করোনায়ও আমন ধান রোপনে ও বীজ বপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার কৃষকেরা।

আবার অনেক কৃষক ইতোমধ্যে আমন ধানের বীজ জমিতে অগ্রিম ফেলার ফলে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে আমন ধান রোপণের ধুম পড়েছে । কৃষকদের আশা, এবার বোরো মৌসুমের মতো, তারা আমন মৌসুমেই ভালো ফলনের পাশাপাশি দামও ভালো পাবে। গেলো বোরো মৌসুমে উপজেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ ধান আবাদ হয়েছে।

উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে আমন ধান রোপনে ব্যাস্ত সময় পার করছেন কৃষি কাজে নিয়োজিত কৃষকগন।করোনা মহামারির মাঝে ও বসে নেই কৃষকেরা।বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কৃষকেরা হলো এদেশের প্রাণ।

এ বছর আষাঢ় মাসের শুরু থেকেই টানা বৃষ্টিপাত না হলেও থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার ফলে কৃষকরা কোনো রকম সেচ ছাড়াই আমন ধানের চারা রোপণ করতে পারছেন। ফলে কম খরচে কৃষকরা তাদের চাষাবাদের জমি তৈরি করছেন। এছাড়াও সরকারী ভাবে সার বীজ পাওয়ার ফলে বিগত বছরের তুলনায় এবার লাভবান হবেন বলে ধারণা করছেন তারা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা আর আনন্দের মধ্য দিয়ে কৃষকেরা প্রকারভেদে কেউ আমন বীজতলা তৈরীর জন্য মাঠে কাজ করছেন, কেউ জমির আইল কাটছেন আবার কেউ জমির আগাছা পরিস্কার করা সহ চারা উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বেশির ভাগ কৃষকই আমন ধানের চারা রোপনে কাজ শুরু করেছেন।

 

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাজারে ইরি-বোরো ধানের দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা বেশ লাভবান হয়েছেন। আগের বছরের তুলনায় এ বছর বোরো ধানের ফলন যেমন ভালো হয়েছে তেমনি বাজারে দামও বেশ ভালো পেয়েছেন চাষিরা তাই এবার আমন ধান চাষে ঝুঁকছেন উপজেলার কৃষকরা। বর্তমান আমন মৌসুমে আষাঢ় মাসের শুরুতেই একটি বন্যা হয়ে যাওয়ায় বীজতলা তৈরি করতে এবং বীজ ফেলতে কোন অসুবিধা হয়নি। অন্যান্য বছর থেকে এই আমন মৌসুমে বন্যার পানি থেকে ধানের চারা বড় একটা ক্ষতি হতে রক্ষা পেয়েছেন বলে জানান উপজেলার কৃষকরা।
এবার উপজেলায় সুগন্ধি, স্বর্ণা পাঁচ, বিধান ৩৪, হাইব্রিড, গোল্ডেন রাইট, বিধান ৮৭, ৭১সহ বিভিন্ন জাতের ধান রোপণ করা হচ্ছে। তবে উপজেলার বেশিরভাগ নিম্নাঞ্চলের কৃষকেরা বন্যার পানি সহনশীল হওয়ায় ৫১ও৫২ জাতের ধান লাগানোতে ঝুকছেন বেশি পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের বিরোনধানসহ চিনিরগুড়া ও রোপন করছেন।

সফল একজন কৃষক শামীম আহমেদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বন্যার পানির কথা মাথায় রেখে এবার ৫১ জাতের ধান বেশি চাষ করছি কারণ এই ধান দুই-তিনটা বন্যার পানি সহনশীল। বন্যার পানিতে ধান নষ্ট হওয়ার আশংকা কম থাকে। পাশাপাশি তিনি হাইব্রিড ৭১, সুগন্ধি, চিনিগুড়া ও বিরোনধান রোপন করছেন। তিনি জানান প্রতি বছর কিয়ার প্রতি ২৫ থেকে ৩০ মণ ধান ফলাতে পারেন। এই সাপ্তাহর ভিতরে তার ক্ষেতের কাজ শেষ হবে বলে জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুলতান আলী জানান, এবার আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা ১৫হাজার ৭৫ হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছিল। তিনি জানান লক্ষ্যমাত্রা ছেড়ে ১৬ হাজার হেক্টরের বেশি জমি আবাদ হবে।

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, বিশেষ প্রতিনিধি/ই.না.তা





পুরাতন নিউজ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©2019-2021 Daily Vorer Kantho. All rights reserved.