শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
স্বপ্নের আলো ফাউন্ডেশন’র আলোচনা সভা ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরন বিতারণ কুষ্টিয়ায় ট্রাক চাপায় তোয়া খাতুন (১১) নামে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে দেশের অন্যতম নাজির, সাতজন সেরা করদাতা একই পরিবারে ঢাকা জেলা উত্তর সভাপতির বিতর্কিত অডিও ভাইরাল সাতক্ষীরার তালায় ইজিবাইকে গায়ের চাদর জড়িয়ে নিহত ১ গুরুদাসপুরে একই কক্ষে শিক্ষক-ছাত্রী অবস্থানের ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত : শিক্ষককে শোকজ ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগ সভাপতির উক্তি কমিটির মেয়াদ কোন ইস্যু না কাশিপুরে নৌকা প্রার্থী আসাদুজ্জামান মুকুলের নির্বাচনি পথসভা অনুষ্ঠিত কুষ্টিয়া মিরপুর ধুবইল গ্রামে দিনেদুপুরে ব্যাগ ছিনতাই করলো মোটরসাইকেল আরোহী খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে বিএনপি’র স্মারকলিপি প্রদান
নওগাঁর রাণীনগরে একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে লক্ষীকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

নওগাঁর রাণীনগরে একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে লক্ষীকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

 

আব্দুল মজিদ মল্লিক, নওগাঁ:

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ৩১ নং লক্ষীকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে। স্থানীয়রা বলছেন যেদিন শিক্ষা অফিসে শিক্ষকদের মিটিং থাকে সেদিন বাধ্য হয়েই কখনো স্কুলের নৈশপ্রহরী আবার কখনো প্রতিবেশি লোকজন ডেকে পাঠদান করানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থীতি চলার ফলে ভেঙ্গে পরেছে বিদ্যালয়ের পাঠদানসহ শিক্ষা কার্যক্রম।

জানা গেছে, উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো বিস্তারের লক্ষে এলাকার শিক্ষানুরাগী ও সচেতন মহল গত ১৯১০ ইং সালে উপজেলার লক্ষীকোলা গ্রামে “লক্ষীকোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়” স্থাপন করেন। এরপর থেকে ওই অঞ্চলে ধীরে ধীরে শিক্ষার আলো বিস্তার করতে থাকে। একপর্যায়ে বিদ্যালয়টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থান লাভ করে।

ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, গত ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারী লক্ষীকোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহন করেন। ওই সময় বিদ্যালয়ে মাত্র তিন জন শিক্ষক ছিলেন। এরপর তিনজন শিক্ষকের মধ্যে পবিত্র মন্ডল নামে একজন সহকারী শিক্ষক গত ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে চাকুরী ছেরে দিয়ে একটি ব্যাংকে যোগদান করেন। এরপর থেকে দুইজন শিক্ষক দিয়ে চলতো স্কুলের কার্যক্রম। এরই মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে অপর সহকারী শিক্ষক ফারজানা আক্তার দেড় বছরের জন্য ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারী এডুকেশন (ডিপিএড) ট্রেনিংয়ে চলে যান। এরপর থেকে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যালয়টি।

শিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে মোট ৬১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। করোনা পরিস্থীতিতে ওয়ার্ক সিট তৈরি করে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া আবার সেগুলো নিয়ে আসা, খাতা মূল্যায়ন করা এবং অফিসের নানা রকম কাজকর্ম করা এগুলো নিয়ে যেন হাপিয়ে উঠেছি। একটি প্রতিষ্ঠানে যে পরিমানে কাজকর্ম থাকে তাতে কোন ভাবেই একজনের পক্ষে এসব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। অফিসের কাজ করতে গেলে পাঠদান ব্যহত হয় আবার পাঠদান করতে গেলে অফিসের কাজকর্মে ব্যহত হচ্ছে। তার পরেও দিন রাত নির্ঘুম সময় কেটে এসব কাজ করতে হচ্ছে। তিনি বলছেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক চেয়ে শিক্ষা অফিস বরাবর আবেদন করেছি। জানিনা কবে নাগাদ শিক্ষক পাবো।

স্থানীয়রা বলছেন, আগে বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান খুবই ভাল ছিল। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষক সংকটের কারনে শিক্ষাকার্যক্রম ভেঙ্গে পরেছে। এমনিতেই করোনা ভাইরাস জনিত কারনে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পরেছে এর মধ্যে আবার শিক্ষক সংকট। এভাবে আর কিছু দিন চলতে থাকলে এই বিদ্যালয়ে কোন শিক্ষার্থী থাকবেনা। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এসংকট কেটে শিক্ষাব্যবস্থাকে সচল করতে সংশ্লিষ্ঠদের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাসার সামছুজ্জামান বলেন, লক্ষীকোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কথা সংশ্লিষ্ঠ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। আসা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই সংকটের অবসান হবে।

আব্দুল মজিদ মল্লিক//





পুরাতন নিউজ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
©2019-2021 Daily Vorer Kantho. All rights reserved.