রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:০৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
রাজারহাট উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির মানববন্ধন আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে বাণিজ্যমন্ত্রী সাভারে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ময়লা পরিষ্কার পবিপ্রবি রোভার এন্ড গার্ল-ইন রোভারের ইউনিফর্ম বিতরণ সভা অনুষ্ঠিত নওগাঁর রাণীনগরে একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে লক্ষীকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বাঘাইছড়িতে বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২১ উপলক্ষে রেলী ও আলোচনা সভা উদযাপন সোনারায় এর নৌকার মাঝি মজিদ মিরপুরে আওয়ামী লীগের দুই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ গোয়াইনঘাটে তৃতীয় ধাপে ৬ টি ইউনিয়নে ২৮ নভেম্বর ইউপি নির্বাচন আওয়ামীলীগের বিতর্কিত কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা, আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ
গাইবান্ধায় ১৬৭টি ইটভাটার মধ‍্যে অবৈধ ১৫০টি

গাইবান্ধায় ১৬৭টি ইটভাটার মধ‍্যে অবৈধ ১৫০টি

এন এম সরকার,গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা জেলার ৭টি উপজেলায় জনবসতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকা এবং ফসলি জমিতে স্থাপন করা ১৬৭টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র ১৭টির পরিবেশ ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স রয়েছে। আর বাকি ১৫০টি চলছে অবৈধভাবে।

তবে ভ্যাট, আয়কর পরিশোধসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে ছাড়পত্র ও লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করে ইট পোড়াচ্ছেন বলে দাবি করেছেন ভাটা মালিকরা। এদিকে অবৈধ ১৫০টি ইটভাটার মধ্যে গত একমাসে জেলায় ১২টি ইটভাটাতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্য গত ১৪ জানুয়ারি পলাশবাড়ী উপজেলার মাঠেরহাটে এবিএম ও এমসিএইচ ব্রিকসকে ৭০ হাজার টাকা এবং ২৬ জানুয়ারি সাদুল্ল্যাপুর উপজেলায় চারটি ও সদর উপজেলায় একটিসহ পাঁচটি অবৈধ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

পরিবেশ ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স না থাকায় প্রত্যেকটি ইট ভাটায় এক লাখ করে টাকা জরিমানা আদায়সহ সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এগুলো হচ্ছে, গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাবাড়ী এলাকায় কেএবি ব্রিকস, সাদুল্যাপুর উপজেলার খোদ্দরসুলপুরে শিখা ব্রিকস, একই এলাকায় এসএম ব্রিকস, এআরবি সরকার ব্রিকস, আর এসবি ব্রিকস। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এসএম ফয়েজ উদ্দিন এসব ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মিহির লাল সরদার। এছাড়া গত ৫ ফেব্রুয়ারী পলাশবাড়ী উপজেলায় পাঁচটি ইটভাটায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেজবাউল হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ৯ লাখ টাকা জরিমানা আদায়সহ আগুন দিয়ে নিভিয়ে ভাটা বন্ধ করে দেন। সেগুলো হলো, ভগবর্তীপুর এলাকার এস এস ব্রিকস, নারায়ণপুরে এম এস ব্রিকস, হিজলগাড়ী এলাকার এম এম ব্রিকস, পশ্চিম গোপিনাথপুরে এমএম ব্রিকস ও এমএসএম ব্রিকস। সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব ভাটায় এখনও ইট পোড়ানো হচ্ছে। এসব ভাটা মালিক বলছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পরিবেশ ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স চেয়ে সবাই তো আমাদের মতো আবেদন করেই চালাচ্ছেন। তাই বন্ধ করিনি।

অপরদিকে, সাদুল্ল্যাপুর উপজেলার বদলাগাড়ী এলাকার এইচআরবি ইট ভাটা মালিক রুবেল ফরহাদ বলেন ভ্যাট, আয়কর পরিশোধসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে পরিবেশ ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছি। আগামী সপ্তাহে ছাড়পত্র ও লাইসেন্স হাতে পাওয়া যাবে। শুধু ফরহাদ রুবেলই নন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইটভাটা মালিক এমনটাই দাবি করেছেন। গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ইটভাটা রয়েছে ১৬৭টি। এর মধ্য ১৭টির পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র রয়েছে। লাইসেন্স পাওয়া ইটভাটাগুলোর বেশীর ভাগই স্থাপন করা হয়েছে কৃষি জমিতে ও জনবসতি এলাকায়। আর পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের লাইসেন্স বিহীন চলছে ১৫০টি ইটভাটা। সেগুলো হলো, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ২৬টি, সদর উপজেলায় ২০টি, সাদুল্ল্যাপুরে ১৩টি গোবিন্দগঞ্জে ৩৪টি পলাশবাড়ীতে ৪৬টি ও সাঘাটা উপজেলায় ১১টি ইটভাটা। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, একটি ইটভাটা পরিচালনা করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, হালনাগাদ ইট পোড়ানোর লাইসেন্স, পরিবেশবান্ধব (জিগজ্যাক) চিমনি, কয়লা পোড়ানো এবং আয়কর পরিশোধ করতে হয়। এ ছাড়া ট্যাক্স, ভ্যাট পরিশোধের সনদপত্র, আপত্তি নেই মর্মে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সনদপত্র, ভূমি কর পরিশোধের রশিদ ও জমির মালিকানা অথবা ভাড়ার চুক্তিপত্র জেলা প্রশাসক অফিসে দাখিল করার নিয়ম। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জেলা প্রশাসকের কাছে ইট প্রস্ততকরণের জন্য (ইটভাটা স্থাপনের) লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করতে হয়।

সেই আবেদন অনুসন্ধান কমিটি অনুসন্ধান পূর্বক জেলা প্রশাসকের কাছে লাইসেন্স প্রদানের বিষয়ে সুপারিশ করবে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক বিষয়টি নিজে যাচাই করবেন। তারপর নির্ধারিত ফি নিয়ে লাইসেন্স প্রদান করবেন। ৬ সদস্যের এই অনুসন্ধান কমিটিতে যারা রয়েছেন, জেলা প্রশাসক কর্তৃক মনোনীত একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এই কমিটির আহ্বায়ক হবেন এবং পরিবেশ অধিদফতরের বিভাগীয় কার্যালয় বা জেলা কার্যালয় কর্তৃক মনোনীত কোনো কর্মকর্তা হবেন সদস্য সচিব। আর সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বা কর্তৃক মনোনীত কোনো বন কর্মকর্তা এই কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন। আইনে পরিষ্কার বলা আছে, জিকঝাগ ভাটায় ইট পোড়ানোর কাজ করতে হবে। সেখানে আইনকে উপেক্ষা করে গাইবান্ধায় ফিক্সড চিমনিতে ইট পোড়ানো হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইটভাটা মালিক জানান, সর্বনিম্ন ৪৫ ফুট থেকে সর্বোচ্চ ১২০ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন জিকঝাক চিমনি স্থাপন করতে খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। কিন্তু ফিক্সড চিমনিতে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা খরচ হওয়ায় আইনের তোয়াক্কা না করে ভাটা মালিকরা ফিক্সড চিমনিতে ইট পোড়াচ্ছে। এক্ষেত্রে পরিত্যক্ত অনাবাদি জমি, নিচু জলাশয়ের ধারে ইট ভাটা স্থাপন করতে হবে।





পুরাতন নিউজ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
©2019-2021 Daily Vorer Kantho. All rights reserved.